Sunday, August 5, 2018

হে তরুণ তোমাকে স্যালুট করি

-ফারাজী হাবিবুর রহমান
রথী মহা-রথী যাহা করিতে পারেনি তুমি তাহা করিয়া দেখাইয়াছো যুগে যুগে, কালে কালে কিভাবে তোমাদের প্রশংসা করিবো ? সেই ভাষা আমার কাছে নাই আজকের সমাজে আমরা যাহারা একাডেমিক লেখা-পড়া করিয়া বড় হইয়াছি তাহারা শুধু ফুট ইঞ্চি থেকে ফুট ইঞ্চিতে রুপান্তরে সীমিবদ্ধ রহিয়াছি। যদি সত্যিই বিবেকবান হইয়া বড় হইতাম তবে নিজের শরীরে একজীমা-দাদ,চুলকানি লইয়া চুলকানির মলম বিক্রি করিতাম না, নিজের দাঁতে তেতুলের আঠির মত কাল কুচকুচে দাগ লইয়া দাঁত মাজার পাওডার বিক্রি করিতাম না।

রাজপথে যাহাদের ট্রাফিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাখা হইয়াছে তাহাদের একটা বড় অংশ নিজেরাই আইন মানিতেছেনা(https://www.youtube.com/watch?v=kPuhX572bdM ) / (https://www.youtube.com/watch?v=mbrMCzte4Ag) ।আ  বার বুক ফুলাইয়া ঘুষ খাইতেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির লাইসেন্স না থাকিলেও ঐ সকল ব্যাক্তিদের কাছথেকে ঘুষ লইয়া তাহাদেরকে ছাড়িয়া দিচ্ছেন।অন্যদিকে ঐ পুলিশের সন্তানই ‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍“ নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলন করিতেছে। আসলে অপরাধ বা অনিয়োম আমাদের কিছু মানুষের রক্তে মিশিয়া আছে।

 আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন তাদের ন্যায্য দাবি করিয়া আন্দোলন করিতেছে ঠিক তখনই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সকল দাবি মানিয়া লইয়া তাদেরকে ক্লাসে ফেরার আহবান করিয়াছেন। কিছু দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হইয়াছে, কিছু দাবি কিছু দিনের মধ্যেই পূরণ হইয়া যাবে,কারন কিছু আইন  ছে যে গুলোতো  আর রাতারাতি করিয়া ফেলা যায়না, সেই আইন গুলো পাশ করিতে হইলে আলাপ আলোচনার দরকার, এটাই বাস্তবতা।

একটি আন্দোলন যখন সুষ্ঠভাবে চলিতেছে এবং তার সমাধানও হইতেছে ঠিক তখনি একটি কুচক্রী মহল ভাত রান্নার আগুনে ঘিঁ ঢালিয়া বিস্ফরণ ঘটানোর চেষ্টা করিয়াছে, সেই মহলটি কে বা কারা তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না, তারপরও না বলিয়া পারিতেছিনা, তাহারা হলেন আগুন সন্ত্রাসী বিএনপি–জামাত, ইহার বড় প্রমান (https://www.youtube.com/watch?v=SqY_by4qFUo&t=7s) বিএনপি নেতা আমির খসরুর ষড়যন্ত্রমূলক ফোন আলাপ। যে দলের শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে রক্ত খেলার ষড়যন্ত্রে মাতিয়া উঠিতে পারে , আর যাই হোক তাদের রক্তে সমাধান, বিবেক, ধর্ম বলিয়া কিছু থাকিতে পারেনা।

অন্যদিকে এই মহাকালের কালজয়ী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফায়দা লুটটে পিছুপা হয়নাই স্টুপিট ভন্ড মূর্খ শুধু মাত্র নামধারী অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ (https://www.youtube.com/watch?v=0W6nIzFSmn0) । সত্যি কথা বলিতে এই রকম ব্যাক্তিদের অভিনয় দেখাতো দূরে থাকুক ইহাদেরকে মানুষ-জন ঠিক করিয়া চেনেও না। তাই নিজেকে কিভাবে চিনাইতে হইবে সেই ট্রেনিংটা বিএনপি-জামাতের কাছথেকে লইয়া তাহার বহি:প্রকাশ করিয়াছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগন সেই অভিনয় মূর্হতেই ধরিয়া ফেলিয়াছে (https://www.youtube.com/watch?v=AHHyOB5t3hI) । যে বা যাহারা অসত্য মিথ্যার তরী বেয়ে সমুদ্র পাড়ি দিতে চাহিয়াছে , তাহারা সেই সমুদ্রেই ডুবিয়া হাবুডুবু খাইয়াছে, যুগে-যুগে, কালে-কালে, বার-বার তাহা প্রমান হইয়াছে।

আমি স্বচিত্তে বিশ্বাস করি মহাকালের কালজয়ী শিক্ষার্থী তোমরা  ডিসিপ্লিনে বিশ্বাসী এবং সিস্টেমে বিশ্বাসী। আমার বার-বার মনে হইয়াছে সমাজের প্রতিটি ঘর ,প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি মানুষ, যদি ভিতর থেকে আইন বা নিয়োম মানার প্রয়োজনীতা না অনুভব করিতে পারেন তবে সিস্টেম পরিবর্তন কি ভাবে সম্ভব?
আমি একা নই দেশের সব মানুষই দেখিয়াছে ঈদ-পুঁজা-পার্বনে মানুষ বাসে ট্রেনে কিভাবে ছাদে উঠিয়া বাড়িতে যাইয়া থাকেন, তাহাদের কি জানা নাই , এই ভাবে বাসের ছাদে চড়িয়া ভ্রমনের সময় একটা ইমার্জেন্সি ব্রেকেই তাহার  জীবনটা চলিয়া যাইতে পারে, শুধু ড্রাইভার হেলপারদের দোহাই দিলেই চলিবেনা, ইহাতে আমাদেরও অনেক দোষ রহিয়াছে, বুদ্ধিমানের কাজ হইল নিজের ভুলটা আগে খুজিয়া সেইটা শোধরাইয়া , নিজেকে ডিসাপ্লিন করিয়া, তারপর অন্যকে শোধরানো, ডিসিপ্লিনের মধ্যে আনার চেষ্টা করা। এই কারনে আগে নিজেকে,বাবা-মাকে, পরিবারকে, সমাজকে বদলাইতে হইবে। তবেই দেখিবেন পরিবর্তন আসিয়াছে , আসিবেই।
হে তরুন,
তোমরা যে মহা-পুরুষের মত আন্দোলন করিয়া আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া দিয়াছো, তার জন্য আরো একবার স্যালুট করি। পরিবর্তন কিন্তু সরকাকের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ইহা ঘটাইতে গেলে নিজেকে,বাবা-মাকে, পরিবারকে, সমাজকে, সরকারকে পরিবর্তন হইতে হবে।তোমরা যে মহা-পুরুষের ভূমিকা পালন করিয়াছো সেই মহা-পুরুষদের ডিসিপ্লিন নিজের চিত্তে ধারণ করিয়া যাহা অন্যায় ,তাহাকে প্রকাশ্যে ঘৃনা করো , তাহা পরিত্যাগ করো,তাহার বিরুদ্ধে জেগে ওঠো।
জয় হোক কালজয়ী শিক্ষার্থীদের ,
জয় হোক এই সকল মহা পুরুয়দের ,
জয় হোক তারুণ্যের।

Thursday, August 2, 2018

স্বর্গিয় স্বাদ

-ফারাজী হাবিবুর রহমান

কষ্টের সীমারেখা পেরিয়ে এসেছো
এই পৃথিবীতে বহু যুগ যুগ সধনার পরে।
কোথায় ছিল তোমার অস্তিত্ত জানো?

হয়তো বা ধুলি কনার মাঝে নতুবা জল-জঙ্গলের মাঝে।
আবার এমন হতে পারে বাতাসের অনুতে
নয়তো বা বৃক্ষের ফলে। 
তবে এতটুকু সত্যই সত্য 
তুমি ছিলে এই ধরার কোন না কোন বস্তুতে।

আবার তুমি মিশে যাবে
এই ধরার অনু পানি অথবা বাস্পে।
যদি হয় আত্তা পরিসিদ্ধ 
তবে পরের জনমের আর কিবা দরকার আছে?

এখানেই পেয়েছো মর্মরিত ঊষা পরুষের জয়োরথ,
ছিল সেখানে স্বর্গ লোকের প্রেত নৃত্য, 
ছিল প্রথম সূর্যের জয়ো গান।

ধরনির প্রতিটি বস্তু বা অনু 
এই স্বর্গ অনুভতির বাইরে নয়, 
যদি থাকে তার চরম অনুভতির সর্বচ্চ পর্যায়
তবে পেতে পারে সে স্বর্গি মদের উপচে পড়া পেয়ালার স্বাদ।


সত্য মূল্য


-ফারাজী হাবিবুর রহমান

আমি যদি অগম পারে চলিয়া যাই
সুখে থাকিও কিন্তু আমাকে ভুলিয়া।
কখনোই চোখের অশ্রু চাহিনা আমি
চাহিয়াছি তুমি সুখেই থেকো
সুখেই করিও বসত।

ভালবাসিয়াছি তোমায় আমি 
অসিম আকাশের মতো।
চন্দ্র তারা আর সূর্য যদি হতো সাক্ষী
জনম জনম ধরিয়া রহিতো আমার ভালবাসা।
বিধাতা আমায় ধুলি কণা 
আর শিমুল দ্বানার মতো উড়াইয়া উড়াইয়া
তোমার কাছে আনিয়াছে তুমি প্রকৃকি বলে।

আমি জানিনা 
এই চন্দ্রতারাঁ, সূর্য,গগন-পবন, ধুলি কণার 
সত্য মূল্য দিতে পারিয়াছি কিনা?
ইহা যদি হয় অপরাধ আমি অপরাধী 
প্রকৃতি আর প্রকৃত নারীর কাছে।
ইচ্ছা রহিয়াছে তোমাকে লইয়া 
নদী জল সমুদ্র পাড়ি দিব।

তুমিতো তাহারি সত্য মূল্য দিয়েছো।
এই সত্য মূল্য কি আমার চাওয়ায়?
এই সত্য মুল্য কি আমার কথায়?
এই সত্য মুল্য কি আমায় ভালবাসিয়া?
নাকি আমাকে করুনা করিয়া?

সত্য মূল্য যদি হইয়া থাকে আমার চাওয়ায়
আমার কথায় অথবা তোমার করুনায়
তবে আমি এই সত্য মূল্য আমি চাহিনা।
সত্য মূল্য তুমি উড়াইয়া দাও মুক্ত আকাশে
যাহা শুধু আমার নয় পৃথিবীর প্রকৃতির সমস্থ অনু সমস্থ কনার!


গান

গান

অপবাদ

-ফারাজী হাবিবুর রহমান
আজ আমাদের সমাজে নারী প্রগতির যে আন্দলোন চলিতেছে তাহা দেখিলে মনে হয় এই বুঝি নারী তাহার সকল অধিকার প্রতিষ্ঠা করিয়া আকাশচুঙ্গে অবস্থান করিতেছে। কিন্তু বাস্তবতার দিকে লক্ষ করিলে তাহার বিপরীতটাই হইতেছে। নারীর অধিকার যদি আমরা প্রতিষ্ঠা করিতে চাই তবে আমাদেরকে নারীদের প্রতি নেতীবাচক দৃষ্টিভঙ্গী ত্যাগ করিতে হইবে, নিজের মস্তিকের রোগটাকে চিকিৎসা করিতে হইবে। আমি বলছিনা এই রোগ সবার আছে তবে আমাদের সমাজের অনেকেরই আছে।

পাঠক আপনারা হয়তো আমার সাথে একমত হবেন , ছেলে যে অনৈতিক কাজটি করে , নারী যদি তাহার কাছ থেকে হাটিয়া যায় তবে আমরা তাহাদেরকে এমন অপবাদ দিয়া থাকি যাহা মুখে আনিবার যো নাই।  আমি পাঠকদের চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া দিতে চাই।তাহার জন্য লিখিলাম নইরে লিখিতাম না।

আমাদের পাড়া গায়ের সমাজ, না থাক আমাদের শহুরে সমাজের কথাই বলি, ছকিনা যখন একটা প্রেম থেকে ছিটকে গিয়ে অন্য একটি প্রেমে পড়িয়াই বসে , আর ঐ ঘটনা যদি সমাজে জানাজানি হয় তখন লোকদের কর্মকান্ড দেখিলে মনে হয় সে ঘটনাটি Live Telecust  হইতেছে।আর তাৎক্ষনিক ভাবে ছকিনাকে এমন গালি দেওয়া শুরু হয় তাহা মুখে আনিতে চাইনা, না আনিলে আপনাদের চোখে আঙ্গুল দিয়া কেমন করিয়া দেখাইবো?

তাই লিখিলাম ছকিনা তখন সমাজের দূ:চরিত্রা , ছেলেদের মাথা খেগো, এমনকি পতিতাতে রুপান্তরিত হইয়াছে। অন্যদিকে আমাদের ছেলেরা Dozen Dozen প্রেম-ভালবাসা করিয়া ছকিনা নাসিমা করিমার মত শত নারীকে ছ্যাকা মারিতেছে তাহা কিন্তু আমাদের অজানা নহে। আমি শত নারীকে ছ্যাকা মারার কথা বলিয়াছি, মিথ্যা কিন্তু বলিনাই।

আপনারা পেছনের দিকে চোখ খুলিয়া তাকাইলে দেখিতে পাইবেন কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিশেষ কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করিলাম না) এক ছেলে  শত নারীর চরিত্র হরণ করিয়া যখন ধর্ষণে শেনচুরি মারিয়াছেন , তখন তিনি ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করিতেছেন , এমন অবস্থায় আমাদের দেশের সরকারের কোন একজন তাহাকে দুষ্টু ছেলে বলিয়া আদর করিয়া ছিলেন। এই রকম শেনচুরির ধারা যদি চলিতে থাকে তবে মুশফিকুর রহিমের ডাবল শেনচুরির রেকর্ড ভাঙ্গিতে আর বেশি সময় লাগিবে না।

এদিকে আমার কাছের এক বন্ধু মোজাহিদুল ইসলাম মেয়েদের সম্পর্কে এমন সব মন্তব্য করিয়া থাকেন যাহার একটি আপনাদের সামনে বলিয়াই দি। সে দিন রাস্তা দিয়ে হাটিবার সময় মি: মোজাহিদ ও সাখাওয়াতের সাহেবের মধ্যে মেয়েদেরকে নিয়ে আলোচনা হইতে ছিল। তখন আমিও তাহাদের মাঝে উপস্তিত ছিলাম।

মি: সাখাওয়াত: মেয়েটা কি বিবাহিত না অবিবাহিত?

 মোজাহিদ: বিবাহিত না অবিবাহিত তাহা বলিতে পারিনা , যাহা বলিতে পারি তাহা হল আমি যদি ভালো মনে এই মাইয়াটির হাতে -------- করিতে যাই তাহা হইলে দেখা যাইবে পাটের জালায় তাহার-----বাহিয়া ------পড়িতেছে। একটা মেয়ে সর্ম্পকে সাখাওয়াত সাহেবের এতটুকু জানার অধিকার রহিয়াছে, কিন্তু মোজাহিদ সাহেবের কি এই রকম কু-মন্তব্য করিবার আধিকার রহিয়াছে? এখনকার মানুষ যখন কাঁদা উড়াইতেছে আমি তখন ধুলা উড়াইয়া কিবা করিতে পারি?

বরিশালের বর্ষা যখন আপন খালুর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শ্বিকার হইয়া সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হইয়াছে, তখন বর্ষা আমাদের চোখে খানকি মাগি ছিনাল হইয়া গিয়াছে। (সূত্র: ABC Radio 33 No Episod)
এদিকে গোপালগঞ্চের রুমা যখন সংসার স্বচল করিতে নিয়জিত বিয়াইকে যৌন সেবা দিয়াই চলিয়াছে। তাও আবার বিয়াই তাহার যৌন সেবা নিজ স্ত্রীর সামনেই গ্রহন করিতেছে। এই অনৈতিক কাজ বিয়াইয়ের স্ত্রী কি এমনিতেই মানিয়া লইতেছে নাকি মানিয়া লইতে বাধ্য হইতেছে? (সূত্র: ABC Radio 43 No Episod)

তাহার কথা না বলিলেই নয় ছদ্ধ নাম ধারিনী বিথী , যিনি আপন বড় ও মেজো ভাইয়ের দ্বারা যৌন নিপিড়নের শিকার হইয়া শারিরীক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছে। বিথীর ভাইরা শুধু বিথীকে নির্যাতন করিয়া ক্ষ্যান্ত হয়নাই। সর্ব কনিষ্ঠ বোনটাকেও যৌন নির্যাতন করিয়া বাকরুদ্ধ করিয়া দিয়াছে। যতটুকু জানি সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়িতেছে। (সূত্র: ABC Radio 12 No Episod)  
রাস্তা দিয়া মার বয়সি একটি মহিলা হাটিয়া যাইতেছে তাহাকে কিছু মানুষিক অসুস্থ লোক মা না ভাবিয়া মাল ভাবিতেছে , চোখ-কান খোলা রাখুন আপনার পাশে ও দু-এক জন থাকতে পারে। রাস্তার ধারে ঐ রেল রাস্তায় দশ টাকার বিনিময়ে মেয়েছি শুইয়া পড়িয়াছে তাহাও দেখিয়াছি।

যেখানে মার বয়সি মহিলা মাল হইয়া গিয়াছে সেখানে ১৬-১৮ বছর বয়সি মেয়েদের কথা আর কি বলিবো? হায়রে আপবাদ তোর স্থান-কাল-পাত্র নাই, যায়গা-বেযায়গা নাই যেখানে খুশি সেখানেই বসিয়া পড়িস!!!!

Wednesday, August 1, 2018

দিপালি

-ফারাজী হাবিবুর রহমান
পাক্কা ত্রিশ মিনিটের পথ হাটিয়া অসিত খুড়ার দোকানে যাইতাম বিড়ি টানিতে। যদিও আমার বাড়ির পাশেই বিড়ির দোকান রহিয়াছিল। দোকান থাকিলে কি হইবে, সেইখানে আমি তো আমার বড়দা, ঠাকুরদাদের সামনে বিড়ি টানিতে পারি না! এই অসাধ্য সাধন করিতে পাক্কা ত্রিশ মিনিট হাঁটিয়াও বিড়ি টানিবার শ্রাদ্ধ করিতে পারিতাম না। কারণ দোকানে যাইয়া দেখিতে পাইতাম কোন এক ঠাকুরদার বয়সের বুড়া কঙ্কাল মা কালির দিব্যি কাটিয়া কোন সতীসাধ্যি নারীকে উলঙ্গ করিতেছে। অশেষ ধৈর্য ধারণ করিবার পর যখন তাহারা দোকানের চালি ছাড়িয়া উঠিতেন তখন দুচারটি বিড়ি লইয়া আড়ালে গিয়া ফুঁকাইতাম।

একদিন বিড়ি ফুঁকাইয়া আসিবার পথে শুনিতে  পাইলাম নারাণ বাগদির কুমারী মেয়েটি সন্তান প্রশব করিয়াছে। যদিও আমরা জানিতাম যে দিপালি দেবীর কোন এক মোসলমান বুড়ো ছবালের সাথে বিবাহ হইয়াছিল। এ কথা আমরা জানিলে কি হইবে বাগদি পাড়ার কোন লোক ইহা কবুল করিতে পারিত না। কারন বাগদি সমাজে সিঁদুর না পরিয়া, সাত পাকে না ঘুরিয়া এবং বাগদি পাড়ার সকল লোককে না খাওয়াইলে সে বিবাহ নাকি মা কালির নিকট কবুল হইতো না।

শাঁখা নাই সিঁদুর নাই তারপর আবার মোসলমান ছবালের সাথে বিবাহ এতো দর্শনপাপে পরিণত হইয়াছে। লোকে বলাবলি করিতেছিল দিপালি দেবীর ঐ পাপ-মুখ দেখিলে নাকি তাহাদেরও নরক দর্শন করিতে হইবে। বাগদি সমাজের লোকেরা আরও বলাবলি করিতেছে, সে নাকি “বেশ্যাবৃত্তি শুরু করিয়াছে”।

মোসলমান বুড়া নাকি তার চাহিদা মিটাইতে অক্ষম। মোসলমানের সহিত বিবাহ, মোসলমান ছবাল মোসলমানের ধর্ম আর দিপালি তাহার ধর্ম পালন করিতেছে। এসব কথা বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে দিপালির দূর সম্পর্কের এক কাকা মন্তব্য করিয়াছিল, দিপালির বেশ্যাপনা না হয় মানিয়া লইলাম কিন্তু এক ঘরে দুই ধর্ম কিভাবে মানিয়া লইব?’ তাহাদের এসব মন্তব্য| শুনিয়া মনে হইতেছিল বেশ্যাবৃত্তি পাপ না হইলেও এক ঘরে দুই ধর্ম পালন  বাগদি সমাজে নরক দর্শনের জন্য সবচেয়ে বড় পাপ।

বাগদি সমাজের লোকেরা দিপালিকে এই সকল অপবাদ দিয়াই ক্ষ্যান্ত হয় নাই। তাহারা আরও বলিয়া বেড়াইতো সে নাকি বাগদি পাড়ার টিনএজ বালকদের দ্বারা নিজের চাহিদা মেটাইতো। যদিও এসকল অপবাদের কোন ভিত্তি ছিল না। তবুও বলিয়া বেড়াইতো। উদ্দেশ্য একটাই তাহাকে ভিটা ছাড়া করা। এই মহা উদ্দেশ্য সাধন করিবার জন্য তাহাদের সহিত যোগদান করিলেন দিপালি দেবীর একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার ভাই ও বোন।

যে ভাইকে ইঞ্জিনিয়ার তৈয়ার করিতে এবং যে বোনের বিবাহ দেবার জন্য সে তাহার নিজের যৌবনকে বিসর্জন দিয়াছিল ঐ মোসলমান ছবালের নিকট। নিজের একমাত্র চাকুরীর অর্থ দিয়া যখন ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ ও বোনের বিবাহ দিতে পারিতেছিল না তখন ঐ মোসলমান বুড়া ছবালকে বিবাহ করিয়া তাহার নিকট হইতে অর্থ লইয়া তাহাদের খরচ যোগাইয়াছিল।

সে সকল দুর্দিনের কথা তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে। না ভুলিয়া তো আর উপায় নাই। সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইতে গেলে যে তাহাদের এ কথা ভুলিতে হইবেই। দিপালির যে সন্তানটি হইয়াছিল বড় মুখ করিয়া তাহার নাম রাখিয়াছিল সত্য। কিন্তু বাগদি সমাজে যেসব কর্মকান্ড চলিতেছে তাহাতে সত্য যেন মিথ্যায় পর্যবসিত হইল।

মা দুর্গার আশীর্বাদ লইতে ইঞ্জিনিয়ার মহাশয় তাহার সদ্য বিবাহিত পন্তী  রাধাকে লইয়া বাড়িতে আসিলেন। আসিয়াই মা দূর্গার পূজার্চনা করিবার জন্য মন্ডপে চলিয়া গেলেন। মন্ডপ থেকে ফিরিবার পথে অসিতদার দোকানে বসিয়া একটি দামী সিগারেট  ফুঁকাইতেছিলেন। অসিতদা এই সুযোগটি হাতছাড়া করিলেন না। রীতিমতো দিপালির অপবাদ শুর করিয়া দিলেন। “বাবু আপনি তো ইঞ্জিনিয়ার হইয়া সমাজে নাম কামাইতেছেন” এদিকে আপনার বোন যে গ্রামের ছোড়া বুড়া নাই সবার সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং করিতেছে তাহার কি কোন খবর রাখিতেছেন? ইঞ্জিনিয়ার মহাশয় সিগারেটটি মাটিতে ফেলিয়া হাতির মতো এক পাড়া দিয়া দাপাইতে দাপাইতে বাড়ির দিকে চলিলেন।

দিপালি দেবীর কাছে কিছু না শুনিয়াই উনুন হইতে একটি জ্বলন্ত চলা উঠাইয়া তাহার মুখে চাপিয়া ধরিলেন। দিপালি মা বলিয়া কেকাইয়া উঠিল। চুলের মুঠি ধরিয়া বেদম প্রহার করিতে করিতে বলিতেছিলেন, ‘ছোড়া বুড়া ঘরে আনিস ? কলঙ্কিনি কান খুলিয়া একটি কথা শোন এই মুহূর্তে তুই আমার ভিটা ছাড়িয়া যা, তাহা না হইলে তোর আদরের ললনা চোখের মনি সন্তানকে এখনই চিতায় পাঠাইয়া দিব। এরপর দিপালি তাহার সত্যকে লইয়া একমাত্র আশ্রয় মোসলমানের ঘরে গিয়া উঠিল। কিছুদিন পর কোন এক কালো রাত্রিতে কালনাগিনীর দংশনে তাহার শেষ আশ্রয়টিও জান্নাতে চলিয়া গেল।

 মহাপ্রলয়ের মধ্যে অভাগিনী যখন যে খড়টি চাপিয়া ধরিতেছে তাহাই তাহাকে ছাড়িয়া যাইতেছে। ঈশ্বরের এই পৃথিবীতে জায়গার অভাব নাই কিন্তু দিপালি দেবীর পরিণতি দেখিয়া মনে হইতেছে ঈশ্বরও এখন কৃপণ হইয়া  গিয়াছে। তাহার ঠাঁই  হইয়াছে রেলরাস্তার পাশে ঐ ছোট্ট ঘরটিতে।

ট্রেন চলিয়াছে গন্তব্যে,
সূর্য উঠিয়াছে পূর্ব দিগন্তে।
রেলরাস্তার পাশে একটি ডাস্টবিনে
একটি কাক একটি কুকুর ও সত্যবাবু
একটি ছেড়া রুটি টানটানি করিতেছে।