Sunday, August 5, 2018

হে তরুণ তোমাকে স্যালুট করি

-ফারাজী হাবিবুর রহমান
রথী মহা-রথী যাহা করিতে পারেনি তুমি তাহা করিয়া দেখাইয়াছো যুগে যুগে, কালে কালে কিভাবে তোমাদের প্রশংসা করিবো ? সেই ভাষা আমার কাছে নাই আজকের সমাজে আমরা যাহারা একাডেমিক লেখা-পড়া করিয়া বড় হইয়াছি তাহারা শুধু ফুট ইঞ্চি থেকে ফুট ইঞ্চিতে রুপান্তরে সীমিবদ্ধ রহিয়াছি। যদি সত্যিই বিবেকবান হইয়া বড় হইতাম তবে নিজের শরীরে একজীমা-দাদ,চুলকানি লইয়া চুলকানির মলম বিক্রি করিতাম না, নিজের দাঁতে তেতুলের আঠির মত কাল কুচকুচে দাগ লইয়া দাঁত মাজার পাওডার বিক্রি করিতাম না।

রাজপথে যাহাদের ট্রাফিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাখা হইয়াছে তাহাদের একটা বড় অংশ নিজেরাই আইন মানিতেছেনা(https://www.youtube.com/watch?v=kPuhX572bdM ) / (https://www.youtube.com/watch?v=mbrMCzte4Ag) ।আ  বার বুক ফুলাইয়া ঘুষ খাইতেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির লাইসেন্স না থাকিলেও ঐ সকল ব্যাক্তিদের কাছথেকে ঘুষ লইয়া তাহাদেরকে ছাড়িয়া দিচ্ছেন।অন্যদিকে ঐ পুলিশের সন্তানই ‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌‍“ নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলন করিতেছে। আসলে অপরাধ বা অনিয়োম আমাদের কিছু মানুষের রক্তে মিশিয়া আছে।

 আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন তাদের ন্যায্য দাবি করিয়া আন্দোলন করিতেছে ঠিক তখনই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সকল দাবি মানিয়া লইয়া তাদেরকে ক্লাসে ফেরার আহবান করিয়াছেন। কিছু দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হইয়াছে, কিছু দাবি কিছু দিনের মধ্যেই পূরণ হইয়া যাবে,কারন কিছু আইন  ছে যে গুলোতো  আর রাতারাতি করিয়া ফেলা যায়না, সেই আইন গুলো পাশ করিতে হইলে আলাপ আলোচনার দরকার, এটাই বাস্তবতা।

একটি আন্দোলন যখন সুষ্ঠভাবে চলিতেছে এবং তার সমাধানও হইতেছে ঠিক তখনি একটি কুচক্রী মহল ভাত রান্নার আগুনে ঘিঁ ঢালিয়া বিস্ফরণ ঘটানোর চেষ্টা করিয়াছে, সেই মহলটি কে বা কারা তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না, তারপরও না বলিয়া পারিতেছিনা, তাহারা হলেন আগুন সন্ত্রাসী বিএনপি–জামাত, ইহার বড় প্রমান (https://www.youtube.com/watch?v=SqY_by4qFUo&t=7s) বিএনপি নেতা আমির খসরুর ষড়যন্ত্রমূলক ফোন আলাপ। যে দলের শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে রক্ত খেলার ষড়যন্ত্রে মাতিয়া উঠিতে পারে , আর যাই হোক তাদের রক্তে সমাধান, বিবেক, ধর্ম বলিয়া কিছু থাকিতে পারেনা।

অন্যদিকে এই মহাকালের কালজয়ী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফায়দা লুটটে পিছুপা হয়নাই স্টুপিট ভন্ড মূর্খ শুধু মাত্র নামধারী অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ (https://www.youtube.com/watch?v=0W6nIzFSmn0) । সত্যি কথা বলিতে এই রকম ব্যাক্তিদের অভিনয় দেখাতো দূরে থাকুক ইহাদেরকে মানুষ-জন ঠিক করিয়া চেনেও না। তাই নিজেকে কিভাবে চিনাইতে হইবে সেই ট্রেনিংটা বিএনপি-জামাতের কাছথেকে লইয়া তাহার বহি:প্রকাশ করিয়াছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগন সেই অভিনয় মূর্হতেই ধরিয়া ফেলিয়াছে (https://www.youtube.com/watch?v=AHHyOB5t3hI) । যে বা যাহারা অসত্য মিথ্যার তরী বেয়ে সমুদ্র পাড়ি দিতে চাহিয়াছে , তাহারা সেই সমুদ্রেই ডুবিয়া হাবুডুবু খাইয়াছে, যুগে-যুগে, কালে-কালে, বার-বার তাহা প্রমান হইয়াছে।

আমি স্বচিত্তে বিশ্বাস করি মহাকালের কালজয়ী শিক্ষার্থী তোমরা  ডিসিপ্লিনে বিশ্বাসী এবং সিস্টেমে বিশ্বাসী। আমার বার-বার মনে হইয়াছে সমাজের প্রতিটি ঘর ,প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি মানুষ, যদি ভিতর থেকে আইন বা নিয়োম মানার প্রয়োজনীতা না অনুভব করিতে পারেন তবে সিস্টেম পরিবর্তন কি ভাবে সম্ভব?
আমি একা নই দেশের সব মানুষই দেখিয়াছে ঈদ-পুঁজা-পার্বনে মানুষ বাসে ট্রেনে কিভাবে ছাদে উঠিয়া বাড়িতে যাইয়া থাকেন, তাহাদের কি জানা নাই , এই ভাবে বাসের ছাদে চড়িয়া ভ্রমনের সময় একটা ইমার্জেন্সি ব্রেকেই তাহার  জীবনটা চলিয়া যাইতে পারে, শুধু ড্রাইভার হেলপারদের দোহাই দিলেই চলিবেনা, ইহাতে আমাদেরও অনেক দোষ রহিয়াছে, বুদ্ধিমানের কাজ হইল নিজের ভুলটা আগে খুজিয়া সেইটা শোধরাইয়া , নিজেকে ডিসাপ্লিন করিয়া, তারপর অন্যকে শোধরানো, ডিসিপ্লিনের মধ্যে আনার চেষ্টা করা। এই কারনে আগে নিজেকে,বাবা-মাকে, পরিবারকে, সমাজকে বদলাইতে হইবে। তবেই দেখিবেন পরিবর্তন আসিয়াছে , আসিবেই।
হে তরুন,
তোমরা যে মহা-পুরুষের মত আন্দোলন করিয়া আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া দিয়াছো, তার জন্য আরো একবার স্যালুট করি। পরিবর্তন কিন্তু সরকাকের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ইহা ঘটাইতে গেলে নিজেকে,বাবা-মাকে, পরিবারকে, সমাজকে, সরকারকে পরিবর্তন হইতে হবে।তোমরা যে মহা-পুরুষের ভূমিকা পালন করিয়াছো সেই মহা-পুরুষদের ডিসিপ্লিন নিজের চিত্তে ধারণ করিয়া যাহা অন্যায় ,তাহাকে প্রকাশ্যে ঘৃনা করো , তাহা পরিত্যাগ করো,তাহার বিরুদ্ধে জেগে ওঠো।
জয় হোক কালজয়ী শিক্ষার্থীদের ,
জয় হোক এই সকল মহা পুরুয়দের ,
জয় হোক তারুণ্যের।

No comments:

Post a Comment