আজ আমাদের
সমাজে নারী প্রগতির যে আন্দলোন চলিতেছে তাহা দেখিলে মনে হয় এই বুঝি নারী তাহার সকল
অধিকার প্রতিষ্ঠা করিয়া আকাশচুঙ্গে অবস্থান করিতেছে। কিন্তু বাস্তবতার দিকে লক্ষ করিলে
তাহার বিপরীতটাই হইতেছে। নারীর অধিকার যদি আমরা প্রতিষ্ঠা করিতে চাই তবে আমাদেরকে নারীদের
প্রতি নেতীবাচক দৃষ্টিভঙ্গী ত্যাগ করিতে হইবে, নিজের মস্তিকের রোগটাকে চিকিৎসা করিতে
হইবে। আমি বলছিনা এই রোগ সবার আছে তবে আমাদের সমাজের অনেকেরই আছে।
পাঠক আপনারা
হয়তো আমার সাথে একমত হবেন , ছেলে যে অনৈতিক কাজটি করে , নারী যদি তাহার কাছ থেকে হাটিয়া
যায় তবে আমরা তাহাদেরকে এমন অপবাদ দিয়া থাকি যাহা মুখে আনিবার যো নাই। আমি পাঠকদের চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইয়া দিতে চাই।তাহার
জন্য লিখিলাম নইরে লিখিতাম না।
আমাদের পাড়া
গায়ের সমাজ, না থাক আমাদের শহুরে সমাজের কথাই বলি, ছকিনা যখন একটা প্রেম থেকে ছিটকে
গিয়ে অন্য একটি প্রেমে পড়িয়াই বসে , আর ঐ ঘটনা যদি সমাজে জানাজানি হয় তখন লোকদের কর্মকান্ড
দেখিলে মনে হয় সে ঘটনাটি Live Telecust হইতেছে।আর
তাৎক্ষনিক ভাবে ছকিনাকে এমন গালি দেওয়া শুরু হয় তাহা মুখে আনিতে চাইনা, না আনিলে আপনাদের
চোখে আঙ্গুল দিয়া কেমন করিয়া দেখাইবো?
তাই লিখিলাম
ছকিনা তখন সমাজের দূ:চরিত্রা , ছেলেদের মাথা খেগো, এমনকি পতিতাতে রুপান্তরিত হইয়াছে।
অন্যদিকে আমাদের ছেলেরা Dozen Dozen প্রেম-ভালবাসা করিয়া ছকিনা নাসিমা করিমার মত শত
নারীকে ছ্যাকা মারিতেছে তাহা কিন্তু আমাদের অজানা নহে। আমি শত নারীকে ছ্যাকা মারার
কথা বলিয়াছি, মিথ্যা কিন্তু বলিনাই।
আপনারা পেছনের
দিকে চোখ খুলিয়া তাকাইলে দেখিতে পাইবেন কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিশেষ কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের
নাম উল্লেখ করিলাম না) এক ছেলে শত নারীর চরিত্র
হরণ করিয়া যখন ধর্ষণে
শেনচুরি মারিয়াছেন , তখন তিনি ক্যাম্পাসে মিষ্টি বিতরণ করিতেছেন , এমন অবস্থায় আমাদের
দেশের সরকারের কোন একজন তাহাকে দুষ্টু ছেলে বলিয়া আদর করিয়া ছিলেন। এই রকম শেনচুরির
ধারা যদি চলিতে থাকে তবে মুশফিকুর রহিমের ডাবল শেনচুরির রেকর্ড ভাঙ্গিতে আর বেশি সময়
লাগিবে না।
এদিকে আমার
কাছের এক বন্ধু মোজাহিদুল ইসলাম মেয়েদের সম্পর্কে এমন সব মন্তব্য করিয়া থাকেন যাহার
একটি আপনাদের সামনে বলিয়াই দি। সে দিন রাস্তা দিয়ে হাটিবার সময় মি: মোজাহিদ ও সাখাওয়াতের
সাহেবের মধ্যে মেয়েদেরকে নিয়ে আলোচনা হইতে ছিল। তখন আমিও তাহাদের মাঝে উপস্তিত ছিলাম।
মি: সাখাওয়াত:
মেয়েটা কি বিবাহিত না অবিবাহিত?
মোজাহিদ: বিবাহিত না অবিবাহিত তাহা বলিতে পারিনা
, যাহা বলিতে পারি তাহা হল আমি যদি ভালো মনে এই মাইয়াটির হাতে -------- করিতে যাই তাহা
হইলে দেখা যাইবে পাটের জালায় তাহার-----বাহিয়া ------পড়িতেছে। একটা মেয়ে সর্ম্পকে সাখাওয়াত
সাহেবের এতটুকু জানার অধিকার রহিয়াছে, কিন্তু মোজাহিদ সাহেবের কি এই রকম কু-মন্তব্য
করিবার আধিকার রহিয়াছে? এখনকার মানুষ যখন কাঁদা উড়াইতেছে আমি তখন ধুলা উড়াইয়া কিবা
করিতে পারি?
বরিশালের
বর্ষা যখন আপন খালুর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শ্বিকার হইয়া সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হইয়াছে,
তখন বর্ষা আমাদের চোখে খানকি মাগি ছিনাল হইয়া গিয়াছে। (সূত্র: ABC Radio 33 No
Episod)
এদিকে গোপালগঞ্চের
রুমা যখন সংসার স্বচল করিতে নিয়জিত বিয়াইকে যৌন সেবা দিয়াই চলিয়াছে। তাও আবার বিয়াই
তাহার যৌন সেবা নিজ স্ত্রীর সামনেই গ্রহন করিতেছে। এই অনৈতিক কাজ বিয়াইয়ের স্ত্রী কি
এমনিতেই মানিয়া লইতেছে নাকি মানিয়া লইতে বাধ্য হইতেছে? (সূত্র: ABC Radio 43 No
Episod)
তাহার কথা
না বলিলেই নয় ছদ্ধ নাম ধারিনী বিথী , যিনি আপন বড় ও মেজো ভাইয়ের দ্বারা যৌন নিপিড়নের
শিকার হইয়া শারিরীক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছে। বিথীর ভাইরা শুধু বিথীকে নির্যাতন
করিয়া ক্ষ্যান্ত হয়নাই। সর্ব কনিষ্ঠ বোনটাকেও যৌন নির্যাতন করিয়া বাকরুদ্ধ করিয়া দিয়াছে।
যতটুকু জানি সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়িতেছে। (সূত্র: ABC Radio 12 No Episod)
রাস্তা দিয়া
মার বয়সি একটি মহিলা হাটিয়া যাইতেছে তাহাকে কিছু মানুষিক অসুস্থ লোক মা না ভাবিয়া মাল
ভাবিতেছে , চোখ-কান খোলা রাখুন আপনার পাশে ও দু-এক জন থাকতে পারে। রাস্তার ধারে ঐ রেল
রাস্তায় দশ টাকার বিনিময়ে মেয়েছি শুইয়া পড়িয়াছে তাহাও দেখিয়াছি।
যেখানে মার
বয়সি মহিলা মাল হইয়া গিয়াছে সেখানে ১৬-১৮ বছর বয়সি মেয়েদের কথা আর কি বলিবো? হায়রে
আপবাদ তোর স্থান-কাল-পাত্র নাই, যায়গা-বেযায়গা নাই যেখানে খুশি সেখানেই বসিয়া পড়িস!!!!
No comments:
Post a Comment