Sunday, April 26, 2020

ধর্ষণের কারণ

আমার প্রিয় জন্মভূমিতে তুলনা মূলক গত ২০ বছরের চেয়ে ধর্ষণের পরিমান এখন অনেক বেশি। কারনটা কি খুজেছেন কি? অধিকাংশ মানুই খুজেছেন বা মনে মনে একটা ধারনা করেছেন।

ধর্ষণের কারন হিসাবে সবচেয়ে যে বিষয়টিকে আপনারা দায়ী করেন সেটি হল নারীর পোশাক। গত ২০১৮ ইং সালে ৮ সেপ্টেম্বর আমার ফেসবুকে একটা স্টাটাস দিয়েছিলাম "নারীর পোশাক আর শরীরের দিকে লক্ষ না করে নিজের ন্যাংটো মস্তিকের দিকে লক্ষ কর।"

এই স্টাটাস দেওয়ায় সেই রকম সমালোচনায় পড়েছিলাম। তাতে আমার কোন কিছু যায়-আসেনা। এবার জেনে নেই ধর্ষণ কি?

'ধর্ষণ' এক ধরনের যৌন আক্রমণ। সাধারণত, একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণ শারীরিক বলপ্রয়োগ, অন্যভাবে চাপ প্রদান কিংবা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে। অনুমতি প্রদানে অক্ষম (যেমন- কোনো অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) এরকম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত।

কিভাবে ধর্ষণের সাথে পোশাক সম্পর্কিত তা আমার বোধগম্য না। কারন প্রগতিশীল হলো তা, যা মানুষকে স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার দেয়।আমি নিজে একজন স্বাধীন মানুষ তাই অপারের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ একদমই করতে চাই না,করিও না।

নারীতো মায়ের জাতি তাদের বিষয়ে একদমই না। নারীর পোশাককে যখন ধর্ষণের কারন বলে দায়ী করেন তখন ভাবলে মনে হয় আমি সত্যি এখনো "আইয়ামে জাহেলিয়াত" এর যুগে বসবাস করছি। ৮ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৪০ উর্ধ নারীরা ধর্ষকদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা।
রাস্তায়,মলে,রেস্টুরেন্টে নারীর পোশাকের প্রতি লক্ষ করে যদি কোন পুরুষের যৌন উত্তেজিত হয় তবে সে পশু ছাড়া আর কিবা হতে পারে !

অপরদিকে ৮ বছরের শিশু তো এখনো যৌবনে পা রাখেনি এমনকি সে যদি উলংগো হয়ে রাস্তায় বের হলে তাকে মা-মনি ছাড়া আর কিছু ভাবা যায়না। তাহলে এই মা-মনি কেন ধর্ষণের শিকার হবে ! আজ যারা পর্দার জন্য কালো বোরকা নিয়ে লাফালাফি করেন তাদের উদ্দেশে বলি প্রকৃত ইতিহাসটা জানুন পড়ুন তবেই বুঝবেন।

"আইয়ামে জাহেলিয়াত" যুগে একজন পুরুষের বহু স্ত্রী আর কৃতদাসী থাকতো। পুরুষরা কৃতদাসীদের কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতো, আরব দেশে তাপমাত্রা বেশি থাকায় কালো কাপড় তাদের জন্য যন্ত্রনাদয়ক ছিল। কারন কালো কাপড় তাপ শোষণ করে সবচেয়ে বেশি।

দুঃখ হয় তালকানা মুসলমানরা যখন আল্লাহ ও আমার প্রিয় রাসুলের অমিয় বাণীকে সঠিক ভাবে না বুঝে শুধু বাংলা ওয়াজ এর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রেখে ধর্মন্ধ হয়েছে বা হচ্ছে।
ইউটিউব এ শত শত বাংলা ওয়াজ আছে যারা মত-পার্থক্য নিয়ে মারামারিও করছেন। তফসিরের বিপরীতে এক হুজুর আর এক হুজুরের সমালোচনা নিয়ে ব্যাস্ত এমন ভিডিও আছে হাজার হাজার।এই সকল বাংলা ওয়াজ বা কালো বোরকা ধর্ষকদের হাত থেকে নারীকে হেপা-জত করতে পারবেনা।

হেপা-জত করতে পারে প্রগতিশীল চিন্তা, স্বাধীনতা, সুষ্ঠ সংস্কৃতি যা মানুষকে ভাবতে শেখায় নারীরাও মানুষ, নারীরাও মা,নারীরাও স্ত্রী, নারীরাও বোন।বিশ্বাস করুন আমার এই লেখা নারীর ছোট পোশাক বা তথাকথিত পর্দানশিন পোশাকের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়।এই লেখার একমাত্র লক্ষ মানুষের মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলা নারীকে মা, বোন, স্ত্রী ও মানুষ ভাবতে শেখা।

No comments:

Post a Comment