Sunday, July 29, 2018

চাকরি না পাওয়ার কারন

আমাদের সমাজের অনেকেই এখনো লেখা-পড়া শেখার পরও বেকারত্বের ছোবল থেকে বের হতে পারেনি বা পারছেনা।এর বহুবিধ কারণ আছে যে কারন গুলো বেকারত্বকে বেশি প্রভাবিত করছে সেই কারন গুলোর উপর আমার সামান্য কিছু অভিমত ব্যাক্ত করলাম।
আমার মামু-খালু নেই তার মানে আমার চাকরি নেই: আমাদের সমাজে যারা এই মন-মাইন্ডের মানুষ আছে মূলত তারাই বেকার থেকে যায় যুগের পরে যুগ ধরে।আমার কাছে মনে হয় এই মানুষ গুলো মরার আগেই ভুত হয়। চেষ্টা না করেই চাকরি পেতে চায়।আমার বেশ কয়েক জন এই রকম বেকারদের সাথে কথা হয়েছে,তারা বলে"মামু-খালু নেই সিভি জমা দিয়ে আর কি করব?" এই কথার পর আমার প্রশ্ন ছিল-দাদা এই পর্যন্ত আপনি কতটি চাকরির আবেদন করেছেন? " টি "।অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন কবে? "প্রায় বছর হল"।এই মানুষ গুলো চেষ্টা না করে শুধু মামু খালুর দোষ দিয়েই চলেছে।বিভিন্ন জায়গায় সিভি জমা না দিয়েও চাকরির আশা করছে।
বড় ভাইয়ের পিছনে হাটা :অনেই আছেন যারা বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন না করে একটা বড়ভাই বানিয়ে তার সেবা করা শুরু করে দেয়।ভাবে এই মহা বড় ভাই আমার চাকরি ম্যানেজ করে দেবেই দেবে।তাও আবার এমন বড় ভাই ধরে যে বড় ভাই নিজেই কিছু করেনা।আমার দেখা একটা ঘটনা শেয়ার করি- ধরলাম তার নাম নরেশ বাবু ,বাবু শুধুই এলাকায় হুংকার দিয়ে চলে হ্যান করেংগা ত্যান করেংগা আমি ওমক আমি তমক ইত্যাদি ইত্যাদি................
এই নরেশ বাবুকেই পঞ্চনন মশাই যেয়ে বলছে দাদা মালটিন্যাশনার 007 কম্পানিতে আমার একটা চাকরি লাগবে, ঐখানকার বিবিন্ন লোকের কথা আপনার মুখে শুনেছি আমার ব্যাপার টা একটু দেখেন দাদা।যদি আপনাকে একটু খুসি করা লাগে তবে খুসি করে দেব এই সব নিয়ে দাদা আপনি চিন্তা করেন না।তারপর শুরু হলো দাদার সেবা আর খুসি করা এই রকম সেবা আর খুসি করতে করতে প্রায় মাস পার হয়ে গেল।পঞ্চনন মশাই এবার বলছে দাদা চাকরি কবে হবে? দাদা-হবে হবে মালটিন্যাশনাল 007 কম্পনির চাকরিতো একটু দেরি হয় এইটা কোন ব্যাপার না তুই আরো কিছু টাকা কড়ি দে বড় বাবুর কাছ থেকে ঘুরে আসি।
এই করতে করতে বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু পঞ্চননের চাকরি হয়নি।পঞ্চনন মশাই এই এক বছরে দাদা নরেশ বাবুর পিছনে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খুইয়েছে কিন্তু কিছুতেই কিছু লাভ হয়নি।লাভের বেলায় কিছু কাটিং আর কিছু সেটিং শিখেছে যার ফল স্বরুফ চিত্ত বাবুর দোকানের সামনে দিয়ে চলাচল একটু মুশকিল হয়ে গেছে। এই এক বছরে ৭০ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা খুইয়ে বিভিন্ন কম্পানিতে যদি ২০টা চাকরির আবেদন করতো হয়তো বা টা চাকরি হতেও পারতো ।এমনকি ৭০ হাজার টাকা দিয়েও যদি একটি মুদি দোকান করতো তবে তার বছরে না হলেও ৪০ হাজার টাকা লাভ হতো।এই গল্পটি কোন এক সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর মেকানিক্যালের এক শিক্ষার্থীর।
গো-ধরে বসে থাকা সরকারি চাকরি ছাড়া করবোনা:একবার চিন্ত করে দেখুন আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ১৮ কোটির মত মানুষ আছে। আর শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ ৮০ হাজার, এদের ভিতরে সবাই যদি সরকারি চাকরি করতে চায় তবে সরকার কত জনকে চাকরি দেবে? এই বেকার জনসংখ্যার অন্যতম একটি অংশ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে তদবীরের জন্য দালালদের পিছনে ছুটে বেড়ায়।আপনাদের এই তদবীর সংক্রান্ত আনেক ঘটনা জানা আছে কিন্তু অনেকেই সেটা রিয়েলাইস করেননি।আরার জানা তদবীরের অন্যতম একটি ঘটনা তুলে ধরলাম।
ধরুন তার নাম কাশিনাথ,কাশিনাথের এলাকায় ধুরণধর দুইজন সরকারী চাকরি দেওয়ার তদবীর দাতা মানুষ আছেন ।একজন হলেন অজয় ঠাকুর, আর একজন হলেন মদন দাস, এই দুইজন বিভিন্ন বেকার মানুষের কপাল খোরার জন্য তদবীর করে থাকেন।কাশিনাথের বাবার বেশ কিছু জায়গা-জমি ছিল,এই কাশিনাথ একটা সময় বেসরকারি কয়েকটি হসপিটালে চাকরিও করেছেন কিন্তু যে সরকারি চাকরির ভুত তার ঘাড়ে এমন ভাবেই চেপে বসেছে যে তার বেসরকারি সেই হসপিটালের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েই সরকারি চাকরির অন্যতম তদবীর দাতা অজয় ঠাকুরের সরনাপন্ন হয়ে লক্ষ টাকা দিয়ে দিলো।প্রায় বছর এই অজয় ঠাকুরের সেবা করে কাশিনাত এখন ক্লান্ত প্রায়।
এর পর তদবীর দাতা মদন দাসের আমন্ত্রন পেয়ে অয়জ ঠাকুরের কাছে টাকা ফেরত চায়। অজয় ঠাকুর টাকা তাকে ফেরত দিয়েছে কিন্তু বছর তিনেক সময় নিয়ে। এর পর আবার বাজারদর বেড়েছে,তাই মদন দাসের চাহিদাও একটু বেশি লক্ষ টাকা। আরো কিছু জমি বিক্রি করে মদন দাসকে লক্ষ টাকা কাশিনাথ দিয়েছে। মদন দাসকেও বছর সেবা করেছে এই কাশিনাথ,কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।মদন দাসও তাকে ঘুরিয়েছে, তাকে ছিড়ে ছিড়ে লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকি লক্ষ টাকা নাস্তা পানির জন্য মদন দাস তাকে আর ফেরত দেয়নি।
অজয় ঠাকুর আর মদন দাসের সেবা করে করে কাশিনাথ এখন ক্লান্ত,তার মাথায় এখন পানি ডুকেছে,যদি বেসরকারি চাকরিটাই করতাম তবে এতো দিনে কম হলেও লক্ষ টাকা আয় করতে পারতাম, লক্ষ টাকা বছর ব্যাংকে ফেলে রাখলেও কিছু টাকা লাভ হতো ইত্যাদি ইত্যাদি......................
সরকারি চাকরির আশা করা বা চেষ্টা করা এটা দোষের কিছু নয়।বেকার না থেকে কোন কাজ করে তার পাশাপাশি হলে ভাল হয়।
রুচি সম্মত ভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার না করা: বর্তমান সময়টা প্রযুক্তির যুগ তাই প্রয়ুক্তি খাতে যথেষ্ট দক্ষতা না থাকার ফলে আমাদের সমাজের বেকাররা চাকরি পাচ্ছেনা।অনেকে বলতে পারেন আমি সারাক্ষন ফেসবুক মেসেনজার চালাই কিন্তু আমার ভাগ্যে এমনটা হচ্ছে কেন?
আমার বাস্তব অভিঙ্গতা থেকে দেখেছি ভাল নামধারি ছেলে-মেয়েরা প্রযুক্তির সদব্যবহারের অভাবে চাকরি জগতে টিকতে পারছেনা। এখন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান গুলো ফেসবুকের টাইমলাইন চেক করেই লোকবল নিয়োগ দেয়, কিন্তু যখনই তাদের টাইম লাইন চেক করা হয় তক্ষনি দেখা যায় প্রফাইল নেম-রাতের তারা, দিনের সূর্য, ইত্যাদি ইত্যাদি.................
একবার কি ভেবে দেখেছেন? আপনার ফেসবুকের টাইম লাইন শুধু আপনার কাছের লোক-জন নয়, আপনার কত অজানা মানুষ দেখছেন।আপনার ফেসবুকের প্রফাইল নেম,ফেসবুকের টাইম লাইন দেখেই আপনার প্রতি ভাল বা খারাপ দুটো ধারনাই হতে পারে।আপনার রুচি, আপনার পছন্দ, আপনার ব্যাক্তিত্ব, আপনার ফেসবুকের টাইম লাইনই বহন করছে,একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে আপনাকে হয়তো হাজার , হাজার মানুষ চিনতে পারে বা আপনার ব্যাক্তি রুচিবোধ জানতে পারে কিন্তু ফেসবুকের টাইম লাইনের উপর ভিত্তি করে আপনার রুচিবোধ লক্ষাধিক মানুষ মূহুর্তের মধ্যেই জানতে পারে।এই কারনেও অনেকেই বেকারত্বের ছোবল থেকে বের হতে পারছেনা।
কনফিডেন্স এর অভাব: কনফিডেন্স এর অভাবে অনেকেই চাকরি জগতে প্রবেশই করতে পারছেনা।আমি পারি! আমি পারবো! এই ভাবনার অভাবেই চাকরি পাচ্ছেনা, উদাহরণ স্বরুপ-চাকরির ইর্ন্টাাবিউ চলছে- আপনি কোন বিষয়ে লেখা-পড়া করেছেন? =>হিসাব বিজ্ঞানে। অনার্স ১ম বর্ষের যে কোন একটি বিষয়ের ১০ টি অধ্যয়ের নাম বলুনতো। বেসিক্যালি এই রকম প্রশ্নের উত্তর অধিকাংশ মানুষের মনে না থাকাই স্বাভাবিক ।মনে পড়ছেনা বলেই চুপ করে থাকাটাই হল কনফিডেন্সের অভাব।আপনি যদি বললেন স্যার সেই বছর আগে এই বিয়ষটি পড়েছি মনে পড়ছেনা। আপনি হিসাব বিজ্ঞানের ব্যসিক প্রশ্ন করেন উত্তর দিচ্ছি।তখন ভাইবা বোর্ডে যারা আছেন তারা এইটুকু অন্যন্ত বুঝবেন ছেলেটির ভিতরে কিছু না হলেও কনফিডেন্স আছে।আর এই কনফিডেন্সের অভাবেই চাকরি থেকে ছিটকে পড়ছে একটি বড় অংশ।
চাকরি না পাওয়ার আরো অনেক অনেক কারন আছে কিন্ত এই গুলোই হল মেজর কারন। এই বিষয় গুলো যদি অভারকাম করা যায় তবে দেখবেন আপনার জীবনে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং বেকারত্বের কাল ছোবল থেকে ছোট একটি মুক্তির জয়গান আপনার জীবনে এসেছে।



No comments:

Post a Comment