খুব কষ্ট হয়, দুঃখ হয় যখন দেখি একটি ইন্টারসিটি ট্রেনের একটি বগিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী টিকিট না কেটে উঠেছেন।
যারা বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ করছেন তাদের মধ্যে দু-এক জন বাদে সবাই শিক্ষিত ব্যক্তি। এদের মধ্যে কারও বয়স ষাটোর্ধ পাকাদাড়ি মাথায় টুপি, সাত আট জনের মত আছেন দুধের মত ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা মাথায় টুপি মুখে কাল কুচকুচে সুন্দর দাড়ি।কেও কেও আছেন সুট টাই পরা নামধারী তথাকথিত ভদ্রলোক। টিটি মামা যখন এসে ধরেছেন তখন তারা অধিকাংশ ব্যক্তি ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া না দিয়ে টিটি মামার তল পকেট ভারি করার জন্য কিছু টাকা কম দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেও কেও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন (আমি টিকিট পাইনি, ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি........)।
যাইহোক এদেরই মধ্যে দুজন ভদ্রলোকের সাথে আমার কথা হচ্ছিল বর্তমান ট্রেনের সেবা নিয়ে, ট্রেনের ই-টিকেট নিয়ে সাথে ছিল আরও কিছু বিষয়। এর মধ্যে ভদ্রলোক দ্বয় ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দিলেন-বাংলাদেশে কোনদিন ট্রেনের উন্নতি হবেনা, সব সালারাই লুটপাট করে খাচ্ছে গাড়ি-বাড়ি করছে ইত্যাদি ইত্যাদি........
হে আপনার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলুনতো শিক্ষিত মানুষের পোশাক পরে, দুধের মত ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা মাথায় টুপি পরেও যদি বিনা টিকিটে ট্রেনে উটি পক্ষান্তরে আমাদেরই এই চাঁদ মুখে দুর্নীতি বা লুটপাটের কথা কেমন করে বলি?????
Search This Blog
Tuesday, February 4, 2020
Monday, January 27, 2020
চাকরির দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্বেও কেন চাকরি দেয়না!
প্রায় ৬ মাস পূর্বের ঘটনা, তখন সময়টি ছিল প্রচন্ড গরমের। আমি ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং লিমিটেড এ চাকরি করি। আমার মুঠোফোনে ঐ সময় সপ্তাহে দু-একটি কল আসতো "ভাই/স্যার প্রচন্ড কষ্টে আছি একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেন যে কোনো কাজ হলেই করবো" এরকম কিছু কথাবার্তা।
তাদেরকে একটু সহযোগিতা করতে গিয়ে নিজেকে বেশ কয়েকবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।ধরুন তার নাম নরেশ, সে আমাকে ফোন করে বললো স্যার কষ্টে আছি, ঢাকা শহরে অর্থকষ্টের কারনে চলতে পারছিনা ইত্যাদি ইত্যাদি.....
তাদেরকে একটু সহযোগিতা করতে গিয়ে নিজেকে বেশ কয়েকবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।ধরুন তার নাম নরেশ, সে আমাকে ফোন করে বললো স্যার কষ্টে আছি, ঢাকা শহরে অর্থকষ্টের কারনে চলতে পারছিনা ইত্যাদি ইত্যাদি.....
খুব মায়া হলো বসকে বললাম আমার এই ছেলেটিকে নিতেই হবে, ভালো ছেলে আমাদের কাজে লাগবে আরও অনেক কিছু যা বলা লাগে আরকি। স্যার বললো আনো দেখি। কিছু দিনের মধ্যেই নরেশের চাকরির ইন্টারভিউ ব্যবস্থা করলাম। নরেশ এসেছে ইন্টারভিউ দিতে, এসেছে জিন্স পরে, ইন না করে।এই নরেশকেই কলেজে শিক্ষকরা কতবারই না পূণাঙ্গ ইউনিফর্ম পরার কথা বলেছে কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে ইউনিফর্ম এর সুফলটা যেখানে আসার কথা সেখানে আসলো না।ইন্টারভিউ বোর্ডে নরেশকে দেখেই বস আমাকে ডেকে বলে কাকে নিয়ে এসোছো?যার গেটআপই ঠিক নেই সে কিভাবে চাকরি করবে?বসকে বহু অনুরোধের পর এক পর্যায়ে বস নরেশকে নিতে সম্মতি দিল।
যাইহোক ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে তার চাকরিরও ব্যবস্থা হলো, নিয়োগের তারিখও নির্ধারিত হলো। সেই নির্ধারিত তারিখে নরেশ আর এলো না, আমি তার ফোনে কল করি, আমার কল রিসিভ করেনা, এদিকে বসের ঠ্যালাতো আছেই ফারাজী তোমার ছেলে কই??? অবশেষে ২দিন পর নরেশ আমাকে মেসেজ করে জানায় তার শুক্রবার অপডে লাগবে অন্যথায় সে চাকরি করবেনা। বস আমাকে ইচ্ছামত বকলো তোমার লোকেরও কমনসেন্স নেই, সেই সাথে দিন দিন তোমারও কমনসেন্সও লোপ পাচ্ছে আরও ইত্যাদি ইত্যাদি.......
এবার আর এক ছোট
ভাইয়ের কথা বলি, ধরুন ছোট ভাইটির নাম কমলেশ “ভাই একটা চাকরির ব্যবস্থা করেন “এই
বাক্য নিয়ো গো-ধরে বসে আসে প্রায় ৩ মাস। একটি পর্যায়ে একটি কর্ম খালি হওয়ায় তার চাকরির
সুযোগও এলো,সে ভাল গেটআপ নিয়ে এসেছে, চাকরিও হয়েছে,চাকরিতে যোগদানও করেছে।মোটামুটি
ভালই চলছে,দিন পনেরো পার হতে না হতেই তার গালফ্রেন্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারনে সে আর
চাকরি করবেনা। এবার গো ধরেছে ভাই আমার বেতন-কড়ি কিছুই লাগবেনা, আমাকে কারখানার
মেন-গেট থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। ছোট ভাই বলে কথা সেই ব্যবস্থাও করা
লাগলো। এবার বসের আবার সেই একই ঠ্যালা অকথ্য ভাষা হজম করলাম শুধু ছোট ভাইয়ের জন্য,
ছোট ভাই বলে কথা হজমতো করাই লাগবে, আমিতো আর কমলেশের মত গালফ্রেন্ড সংক্রান্ত
সমস্যার কথা বসকে বলতে পারছিনা।
এবার আরও এক ছোট
ভাইয়ের কথা বলি, ধরুন এই ছোট ভাইটির নাম বলাই সে আমাকে বলে “ভাই যদি ফ্লোর-মুছা
কাজও হয় দিন আমি করবো”। পূর্বের তিক্ত ২ অভিজ্ঞতা কথা তাকে শুনালাম
, সে চমৎকার একটি কথা বলো, ভাই হাতের ৫টি আঙ্গুল সমান হয়না, আমি ওদের মত হবোনা। আমাকে
বিশ্বাস করুন আমি যে কোন কাজ হলেই করবো। যাইহোক আবার ছোট ভাইয়ের ফাঁদে দিলাম পা,
পা-দিয়েই পা আটকে গেছে আর বের করতে পারছিনা। সে এক আরও তিক্ত অভিজ্ঞতা।বলাই ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়েছে ,সিওও স্যার একটি প্রশ্ন করেছে
কতদিন কাজ করবা ,বলাই উত্তর দেয় ৬ মাস। সাথে সাথে ওকে রিজেক্ট করে দেয়।
আমার বস সিওও
স্যারের রুম থেকে বের হয়েই আমাকে কল.... যা ইচ্ছা তাই বলে বকা দিল।বলাই একটু পরে
এসে বলছে সরি সরি সরি ভাই, আমি বুঝতে পারিনি তাই এমন কথা বলেছি,আমি অনেক নার্ভাস ছিলাম
আরও অনেক কিছু....
আপনি আবার একটু
চেষ্টা করেন। আমি না করে দি,আমার দ্বারা আর হবে না। এখন বলাই আমার রুমমেটদের
অনুরোধ করতে শুরু করলো,তাদের অনুরোধে এক পর্যায়ে রাজি হই বসের সাথে কথা বলতে কিন্ত
এই বার আমি আর বসের কাছে যাবোনা। এবার যাবে আমার রুমমেট/বড়ভাই কার্তিক দাদা। যাই
হোক একটা পর্যায়ে তার চাকরির ব্যবস্থা হলো।
প্রথম দিনই
বলাইয়ের নাইট শিফট ডিউটি, নাইট শিফটে ডিউটি করলো, সকালে একসাথে নাস্থা করলাম। এখন
বলাই বলছে ভাই আমার কিছু কেনাকাটা আছে আমি বাইরে যাচ্ছি, বলাই ঐ যে বাইরে গেল আর
এলোনা। এবার শুধু বস না সাথে আছে বড়ভাই কার্তিক দাদারও ঠ্যালা।সবই হজম করতে হয়,ছোট
ভাই বলে কথা....।
এখন প্রশ্ন, এর
পরেও আমি কি আমার শিক্ষার্থী এবং ছোট ভাইদের চাকরির ব্যবস্থা করবো..?
আমারই এক বড় ভাই
এর কাছে আমি নিজেই চাকরি চেয়ে ছিলাম সে বলেছিল আমি দেখছি কিন্ত তার দেখা আজও শেষ
হয়নি। বড় ভাইয়ের এই দেখছি নিয়ে তখন খুব কষ্ট পেয়ে ছিলাম, এখন বুঝি বড় ভাইয়ের দেখছি
এখনও শেষ হয়নি কেন!
প্রিয় শিক্ষার্থী/
প্রিয় ছোট ভাই,
তোমাদের উদ্দেশ্যে
নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম,আবেগ আর চাকরির বাস্তবতার
মধ্যে আকাশ সমান দূরত্ব। এই দূরত্বকে ওভারকাম না করতে পারলে একটা দিন আসবে তখন
বড়ভাই আর শিক্ষকরা দেখছি বলে থেমে যাবে!
Saturday, January 11, 2020
প্রেমে পড়ার মত গর্হিত কাজ আর একটিও নেই।
বিশ্বাস করুন আমাদের সমাজে প্রেমে পড়ার মত গর্হিত কাজ আর একটিও নেই। যতই আমরা বলি প্রেম সত্য,স্বর্গিয় ইত্যাদি ইত্যাদি....। এই ছেলে আর মেয়েটার কান্ড দেখেছো আহাহা ছ্যাছ্যা-ছ্যা এবার পাড়াটা রসাতলে গেল।
কেন করে জানেন? জেলাছি থেকে করে, ও যদি করতে পারতো তবে সবই ঠিক ছিল,এটা কোন কোন ব্যাপার হলো।এতে নিন্দার কিছু নেই কারণ প্রেম সত্য,স্বর্গিয়, ঈশ্বরের দান আরো কত কি!
কেন করে জানেন? জেলাছি থেকে করে, ও যদি করতে পারতো তবে সবই ঠিক ছিল,এটা কোন কোন ব্যাপার হলো।এতে নিন্দার কিছু নেই কারণ প্রেম সত্য,স্বর্গিয়, ঈশ্বরের দান আরো কত কি!
Friday, January 10, 2020
আমার ইচ্ছে করে
আমার ইচ্ছে করে একটু সহানুভূতি একটু সাহায্য করতে।
আমার দীনতা সেটা দেয়না করতে, অপরাধবোধ ছাড়েনা পিছু, দেয়না ঘুমাতে রাত্রে।।
রাত্রি-ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, ভাবনা গুলোর ভারি পাথর -চেপেছে মাথায় আমার।।
অসহায় ছেলে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দিয়েছে জলানজলি।।
রাত্রি ক্লান্ত-------চেপেছে মাথায় আমার।।
আমার ইচ্ছে -------দেয়না ঘুমাতে রাত্রে।।
আমার দীনতা সেটা দেয়না করতে, অপরাধবোধ ছাড়েনা পিছু, দেয়না ঘুমাতে রাত্রে।।
রাত্রি-ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, ভাবনা গুলোর ভারি পাথর -চেপেছে মাথায় আমার।।
অসহায় ছেলে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দিয়েছে জলানজলি।।
রাত্রি ক্লান্ত-------চেপেছে মাথায় আমার।।
আমার ইচ্ছে -------দেয়না ঘুমাতে রাত্রে।।
Thursday, December 13, 2018
আমি সূর্যকে ভালবাসি
আমি সূর্যকে ভালবাসি, আমি বাংলাকে ভালবাসি ,
আমি ভালবাসি বাংলার এই মাটিকে ।।
আমি দিপ্ত কন্ঠে বলছি মাগো তোমায় ভালবাসি
।।
সুজলা-সুফলা আমার বাংলা কত যে সোনার ধন,
শত বাঙালীর রক্তে গড়া আমারি জন্মভুমি ,
৫২ থেকে শুরু, ভাষার জন্য দিয়েছো জীবন, স্বরণ করছি
সালাম, রফিক, বরকত, তোমাদের বিন্রম শ্রদ্ধায় ।
আমি দিপ্ত কন্ঠে বলছি মাগো তোমায় ভালবাসি
।।
স্বাধীনতা তুমি কোথায়, ৭১ তুমি কোথায়, মতিউর তুমি কোথায়,
জাহাঙ্গার তুমি কোথায়, কি দিয়ে জানাবো শ্রদ্ধা তোমায় আছে
কি
বলো আমার ।
আমি দিপ্ত কন্ঠে বলছি মাগো তোমায় ভালবাসি
।।
উৎসর্গ
৫২ ও ৭১ এর শহীদদের
অধম বলেছো বলে অধম হয়ে যাই
অধম
বলেছো বলে অধম হয়ে যাই
সফল বলেছো
বলে সফল হয়ে যাই।।
তাড়িয়ে দিয়েছো
বলে দূরে দূরে রই
কাছে ডেকেছো
বলে তোমার দুয়ারে যাই ।।
এক মূহুর্তে
হাসি ফোটাও মুখে
পরক্ষণে আখিঁপাতে
অশ্রু ঝরাও ।।
অধম
বলেছো বলে অধম হয়ে যাই
সফল বলেছো
বলে সফল হয়ে যাই।।
দূরে দূরে
থেকে প্রিয়া জানিতে পারিবেনা ।।
এ মনের বেদনা
, কুৎসা জাতনা গ্লানি দেওযার পরেও
তুমি কত প্রিয়ো
তা তো জানোনা ওগো পরান প্রিয়া।
অধম
বলেছো বলে অধম হয়ে যাই
সফল বলেছো
বলে সফল হয়ে যাই।।
Thursday, November 1, 2018
টেক্সটাইল (স্পিনিং) ফেক্টরিতে প্রোডাকশন অফিসার এর কি কাজ করতে হয় জেনে নিন।
একজন প্রোডাকশন অফিসার এর সারা দিন কি কি কাজ করে বা কি কি করতে হয় তার তালিকা !!!
১. সকাল শুরু হয় শিফট বুঝে নিয়ে ( সারা রাত কি হয়েছিল তার হিসেব বুঝে নিতে হয় )
২. সারা দিন কি স্পিনিং
এ কোন মেশিনে কি কি প্রসেস চালাতে হবে তার প্রোগ্রাম করতে হবে ।
৩. কি কি তুলার বেল,স্লাইভার,রোভিং ফ্লোরে আছে তার হিসেব নেয়া।
৪. প্রতিটা মেশিন এর অপারেটর দের ডেকে তার কি কি কাজ সারা দিন করবে তা বুঝিয়ে দেয়া ।
৫. বায়ারের নির্দোশনা অনুযায়ী দ্রুত
প্রডাকশন প্লান তৈরি করা ।
৬. শিফট এর প্রডাকশন বাড়ানো।
৭. আগের দিনের প্রোডাকশন চলতি দিনের রিপোর্ট তৈরি করা ।
৮. কোথাও কোন লটে মিকআপ হচ্ছে কিনা
তা লক্ষ করা , সমস্যা হলে সমাধান করা , নিজে না পারলে ম্যানেজারের পরামর্শে পরবর্তি
কাজ করা।
৯. ম্যানেজার যা বলে তা করে দেয়া ।
১০. সুতার কোয়ালিটি ইন্সপেকশন করানো।
১১. ফ্লোর এর লোকজনের সাথে কথা বলা, কাজ পরিচালনা করা ।
১২. কোয়ালিটি সম্পন্ন সুতা ডেলিভারি হচ্ছে কিনা তা দেখা।
১৩. ফেক্টরির নিজ ফ্লোর এর সমস্যা হলে তা দেখা।
১৪. শ্রমিকদের দের ছুটি, গেট পাস, ও আনুষঙ্গিক বিষয়য় গুলি দেখা ।
১৫. মিক্সিং প্লান অনুযায়ী কাজ করা।
চলবে...
Subscribe to:
Posts (Atom)

