Monday, April 27, 2020

ঈশ্বর এমন এক সত্তা

ঈশ্বর এমন এক সত্তা,যা মানুষের মধ্যে কখনো কখনো স্বর্গ অনুভূতির সৃষ্টি করে।যে অনুভূতির ভেলায় আমি ভেসে চলেছি দিগন্ত হারা পথের দিশায়।

Sunday, April 26, 2020

ধর্ষণের কারণ

আমার প্রিয় জন্মভূমিতে তুলনা মূলক গত ২০ বছরের চেয়ে ধর্ষণের পরিমান এখন অনেক বেশি। কারনটা কি খুজেছেন কি? অধিকাংশ মানুই খুজেছেন বা মনে মনে একটা ধারনা করেছেন।

ধর্ষণের কারন হিসাবে সবচেয়ে যে বিষয়টিকে আপনারা দায়ী করেন সেটি হল নারীর পোশাক। গত ২০১৮ ইং সালে ৮ সেপ্টেম্বর আমার ফেসবুকে একটা স্টাটাস দিয়েছিলাম "নারীর পোশাক আর শরীরের দিকে লক্ষ না করে নিজের ন্যাংটো মস্তিকের দিকে লক্ষ কর।"

এই স্টাটাস দেওয়ায় সেই রকম সমালোচনায় পড়েছিলাম। তাতে আমার কোন কিছু যায়-আসেনা। এবার জেনে নেই ধর্ষণ কি?

'ধর্ষণ' এক ধরনের যৌন আক্রমণ। সাধারণত, একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণ শারীরিক বলপ্রয়োগ, অন্যভাবে চাপ প্রদান কিংবা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে। অনুমতি প্রদানে অক্ষম (যেমন- কোনো অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) এরকম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত।

কিভাবে ধর্ষণের সাথে পোশাক সম্পর্কিত তা আমার বোধগম্য না। কারন প্রগতিশীল হলো তা, যা মানুষকে স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার দেয়।আমি নিজে একজন স্বাধীন মানুষ তাই অপারের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ একদমই করতে চাই না,করিও না।

নারীতো মায়ের জাতি তাদের বিষয়ে একদমই না। নারীর পোশাককে যখন ধর্ষণের কারন বলে দায়ী করেন তখন ভাবলে মনে হয় আমি সত্যি এখনো "আইয়ামে জাহেলিয়াত" এর যুগে বসবাস করছি। ৮ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৪০ উর্ধ নারীরা ধর্ষকদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা।
রাস্তায়,মলে,রেস্টুরেন্টে নারীর পোশাকের প্রতি লক্ষ করে যদি কোন পুরুষের যৌন উত্তেজিত হয় তবে সে পশু ছাড়া আর কিবা হতে পারে !

অপরদিকে ৮ বছরের শিশু তো এখনো যৌবনে পা রাখেনি এমনকি সে যদি উলংগো হয়ে রাস্তায় বের হলে তাকে মা-মনি ছাড়া আর কিছু ভাবা যায়না। তাহলে এই মা-মনি কেন ধর্ষণের শিকার হবে ! আজ যারা পর্দার জন্য কালো বোরকা নিয়ে লাফালাফি করেন তাদের উদ্দেশে বলি প্রকৃত ইতিহাসটা জানুন পড়ুন তবেই বুঝবেন।

"আইয়ামে জাহেলিয়াত" যুগে একজন পুরুষের বহু স্ত্রী আর কৃতদাসী থাকতো। পুরুষরা কৃতদাসীদের কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতো, আরব দেশে তাপমাত্রা বেশি থাকায় কালো কাপড় তাদের জন্য যন্ত্রনাদয়ক ছিল। কারন কালো কাপড় তাপ শোষণ করে সবচেয়ে বেশি।

দুঃখ হয় তালকানা মুসলমানরা যখন আল্লাহ ও আমার প্রিয় রাসুলের অমিয় বাণীকে সঠিক ভাবে না বুঝে শুধু বাংলা ওয়াজ এর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রেখে ধর্মন্ধ হয়েছে বা হচ্ছে।
ইউটিউব এ শত শত বাংলা ওয়াজ আছে যারা মত-পার্থক্য নিয়ে মারামারিও করছেন। তফসিরের বিপরীতে এক হুজুর আর এক হুজুরের সমালোচনা নিয়ে ব্যাস্ত এমন ভিডিও আছে হাজার হাজার।এই সকল বাংলা ওয়াজ বা কালো বোরকা ধর্ষকদের হাত থেকে নারীকে হেপা-জত করতে পারবেনা।

হেপা-জত করতে পারে প্রগতিশীল চিন্তা, স্বাধীনতা, সুষ্ঠ সংস্কৃতি যা মানুষকে ভাবতে শেখায় নারীরাও মানুষ, নারীরাও মা,নারীরাও স্ত্রী, নারীরাও বোন।বিশ্বাস করুন আমার এই লেখা নারীর ছোট পোশাক বা তথাকথিত পর্দানশিন পোশাকের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়।এই লেখার একমাত্র লক্ষ মানুষের মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলা নারীকে মা, বোন, স্ত্রী ও মানুষ ভাবতে শেখা।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে আমি ঘর থেকে বলছি।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সচেতন হই,সচেতন করি।

এখন যিনি তরুণ, তার উপযুক্ত সময় ঘরে অবস্থান করার।
এখন যিনি তরুণ, তার উপযুক্ত কাজ পরিবারের অন্য সদস্যকে ঘর থেকে বের হতে না দেওয়া।
এখন যিনি তরুণ, তার উপযুক্ত সময় অন্যকে সচেতন করার।
এখন যিনি তরুণ, তার উপযুক্ত সময় পরিবারের সকল সদস্যকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারে বুঝিয়ে বলার।

আমরা যারা ফেসবুক,ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি সোস্যালমিডিয়া ব্যবহার করি তারা অধিকাংশ ব্যাক্তি মোটামুটি সচেতন বলে আশা করি। আমার বিশ্বাস আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম সময়ের দাবিতে তাদের নিজ নিজ পরিবারকে সচেতন করে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করবে।

একটা বিষয় ভাল লাগছে করোনা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা,তামাশা কমে গিয়েছে। ফেসবুকে সচেতনতা মূলক পোস্ট দিচ্ছে।
আমদের সতর্কতা, সাবধানতা, আল্লাহর মেহেরবানীই আমাদের রক্ষা করতে পারে।

মাসলার ছড়াছড়ি

তিরমিজী শরিফের মধ্যে আমার প্রিয় রাসুল (সা:) বলছেন, মজলিসে বসার আবদ বা নিয়ম সম্পর্কে বলেছেন, যিনি আগে যাবেন তিনি আগে বসবেন, যিনি পরে যাবেন তিনি পিছনে বসবেন, যেখানে ফাকা জায়গা পাবেন সেখানেই বসবেন।

আমার প্রিয় রাসুল (সা:) প্রায় সেই ১৪০০ বছর আগে পাবলিক সব বিষয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা কিভাবে ঠিক রাখতে হবে তার সর্ম্পকে সুস্পট বর্ণনা দিয়ে গেছেন।

আজকের সমাজে লক্ষ করলে দেখবেন এর ব্যতক্রিমই হচ্ছে, তা সেই রেল স্টেশন থেকে শুরু করে ইসলামিক মজলিস বা আলোচনা পর্যন্ত, এমন কি মসজিদেও। আমি বহুবার দেখেছি লম্বা পান্জাবী পাজামা টুপি পরে সাধারণ মানুষকে ডিঙ্গিয়ে আগে গিয়ে বসতে। এই বিষয় গুলো দেখে যখন নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি তখন তারা এর ব্যাখ্যাও দিয়ে থাকে।

আজকে আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি, আমি অফিস কোয়াটারের ৩ তালায় থাকি সেখান অজু-গোসল করার জন্য ২ টি বাথরুম আছে। ইফতারের পূর্ব মূহুর্তে আমি অজু করতে গিয়েছি, অজুও শুরু করেছি এমন সময় পাশের বাথরুম থেকে এক ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে ট্যাপে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বলছে,আমার অজু শেষ শুধু পাটা ধুতে বাকি আছে,পাটা ধুয়ে নেই। আমি বললাম ভাই আমিও তো অজুই করছি, আপনি পুরো অজু করবেন আমি শুধু পাটা ধুবো, পাটা ধুতেই বাকি আছে।

আমি নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম আর সে পা ধুয়ে নিলো, এখন ধর্মের ব্যাখ্যা শুরু করলো অজুর পানি মগে জমে আছে অজুর পানি গায়ে-পায়ে লাগাটা হারাম,বুঝেছেন? বললাম ভাই আমি একটু কম বুঝি।

পরবর্তিতে রুমে এসে এক সাহেবের কুরবানির গরু কেনার গল্পটি মনে পড়ে গেলো।গল্পটি ছিল এমন-সাহেব ঘুষের টাকা পকেটে নিয়ে গিয়ে হালাল গরু খুজছেন তো খুজছেন কিন্তু তার দৃষ্টিতে হালাল গরু খুজেই পাচ্ছনে না।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত মত প্রকাশ করছি


বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ ও মন্দির থেকে করোনা সচেতনতা জন্য কাজ করা যেতে পারে। মসজিদ ও মন্দিরের দায়িত্বে যে সকল ইমাম মুয়াজ্জিন, সাধু, গোশাঁই আছেন, তাদের নিজেদেরকে করোনা বা কোভিট-১৯ সম্পর্কে ইউনিয়ন কাউন্সিলে এই সংক্রমণের বাস্তব ভয়াবহতা (ভিডিও, নিউজ, করোনা আপডেটের সর্বশেষ পরিসংখ্যান)তুলে ধরতে হবে।


এই রোগের লক্ষ্মণ, করোনিয়ো, সমাজিক দূরত্ব সচেতনতা ইত্যাদি বিষয়ে অবগত করতে হবে, যেন তারা মসজিদ ও মন্দির থেকে মাইকিং এর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে পারে।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি,এখন সময়ের দাবি প্রত্যেক মসজিদের মাইকে দিনে যে ৫ বার আজান দেওয়া হয়।তার আগে বা পরে করোনা বা কোভিট-১৯ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের কিছু কিছু মন্দিরে মাইক আছে,তবে তার সংখ্যাটা খুবই কম, আর যে মন্দির গুলোতে নেই সেগুলোতে সরকারি বা মন্দির কতৃপক্ষের মাধ্যমে মাইক ব্যাবস্থা করে দিনে ৫ বার করোনা বা কোভিট-১৯ বিষয়ে সাধারণ মানুষে সচেতন করা যেতে পারে।

ঘোষণা বা এলানটি এমন হতে পারে,
সারাবিশ্বের করোনা ভাইরাসের মহামারি নিয়ে জরুরী ঘোষণা।

১.পৃথিবীর সকল দেশে প্রায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে এবং এর ব্যাপক ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে।আজকের নতুন শনাক্ত, ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুর সংখ্যা, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের রির্পোট।

২.আমাদের বাংলাদেশও এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে,জেলায় জেলায় এমনকি কিছু কিছু মহল্লায় মহল্লায়ও ছড়িয়ে পড়েছে কিন্তু আমরা যদি সর্তক না হই তবে এই পরিস্থিতিন আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।এই কারণে আমাদের সর্বচ্চো সর্তক থাকতে হবে।

যে সকল সর্তকতা অবলম্বন করতে হবেঃ

১.জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবেনা।

২.জরুরী প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে গেলে মাক্স ও হ্যান্ড গিলাপ্স পরে নিন।

৩.জনসমাগম এড়িয়ে চলতো হবে।কম পক্ষে একে অন্যের থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৪.সাবান পানি দিয়ে ঘনঘন হাত ধুতে হবে।সম্ভব হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে যেখানে হাতের স্পর্শ লাগে সেখানে পরিস্কার করুন।

৫.বাড়িতে নামাজ পড়ুন /পুজার্চনা করুন।

৬.সম্ভব হলে পরিবারের বয়স্কদের আলাদা করে বিশেষ যত্ন নিন,তাদেরকে সর্তক করুন।

৭.সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ গুলো হলোঃ
১.জ্বর
২.কাসি
৩.শাশ প্রশাশে কষ্ট হওয়া
৪.সর্দি
৫.গায়ে ও বুকে ব্যাথা

এই লক্ষ্মণ গুলো আপনার বা আপনার পরিবারে কারো দেখা দিলে আপনার নিকটবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে নমুনা পরীক্ষা করুন।
সবাই সাবধানে থাকুন, যার যার ধর্ম পালন করুন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। 

Friday, April 24, 2020

নিদির্ষ্ট সময়ের পরে কাজ শেষ করতে না পারাটা অযোগ্যতা

গতকাল সন্ধ্যায় ডাইনিং এ বসে আলোচনা চলছিলো অফিস টাইম শেষ হওয়ার পরও বসরা কেন অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বলে?

আমি সহজেই এক বাক্যে বলবো এটা বসের অপারগতা, অযোগ্যতা ছাড়া আর কিছু নয়।এখেনে ইমার্জেন্সির বিষয়টা কিন্তু ভিন্ন, তাই বলে প্রতিদিন একই ধারা চললে অযোগ্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়।আপনার বস বা একই পদের সহকর্মী যদি অতিরিক্ত সময় অফিস করাতে বা করতে চায় তবে সে নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে তার কাজ শেষ করতে পারেনা।এটা নিয়ে সেই সকল বস, সহকর্মীরা আল্লাদে আটখানা হয়ে বলে আমি অফিসের জন্য এই করি,সেই করি নিজের প্রশংসার ফুলঝুরি ইত্যাদি ইত্যাদি-----

বিশ্বাস করুন প্রকৃত পক্ষে ঐ বস, ঐ সহকর্মী অফিসের ক্ষতি করছে, তারা এটাও উপলব্ধি করতে পারে, তাই খুব সাবধানে নিজের ঢোল নিজেই পিটায়, তা অন্য কারো হাতে গেলে যে কোন সময় ফেটে যেতে পারে।

আপনি অফিসে ভাল করতে চাইলে নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের কাজ শেষ করুন, মন দিয়ে নিষ্ঠার সাথে কাজটি করুন, সৎ থাকুন, নিজের কাজকে নিজের ধর্ম  মনে করুন।

 তাহলে বসের সামনে আপনাকে ভাল হতে হবেনা, বস এমনিতেই আপনাকে ভাল ভাববেন, যোগ্য  মনে করবেন,  যদি এর ব্যতিক্রম হয় তাহলে আপনার কর্মদক্ষতা দেখে বস হিংসা করছে,ভয়ে আছে কখন জানি আমার চেয়ারটা  নিয়ে নেই।

Tuesday, February 4, 2020

এই মূহুর্তে আমি টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড় স্লিকসিটি ট্রেন থেকে বলছি "নায়ুজুবিল্লাহ"!

খুব কষ্ট হয়, দুঃখ হয় যখন দেখি একটি ইন্টারসিটি ট্রেনের একটি বগিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী টিকিট না কেটে উঠেছেন।

যারা বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ করছেন তাদের মধ্যে দু-এক জন বাদে সবাই শিক্ষিত ব্যক্তি। এদের মধ্যে কারও বয়স ষাটোর্ধ পাকাদাড়ি মাথায় টুপি, সাত আট জনের মত আছেন দুধের মত ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা মাথায় টুপি মুখে কাল কুচকুচে সুন্দর দাড়ি।কেও কেও আছেন সুট টাই পরা নামধারী তথাকথিত ভদ্রলোক। টিটি মামা যখন এসে ধরেছেন তখন তারা অধিকাংশ ব্যক্তি ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া না দিয়ে টিটি মামার তল পকেট ভারি করার জন্য কিছু টাকা কম দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেও কেও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন (আমি টিকিট পাইনি, ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি........)।

যাইহোক এদেরই মধ্যে দুজন ভদ্রলোকের সাথে আমার কথা হচ্ছিল বর্তমান ট্রেনের সেবা নিয়ে, ট্রেনের ই-টিকেট নিয়ে সাথে ছিল আরও কিছু বিষয়। এর মধ্যে ভদ্রলোক দ্বয় ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দিলেন-বাংলাদেশে কোনদিন ট্রেনের উন্নতি হবেনা, সব সালারাই লুটপাট করে খাচ্ছে গাড়ি-বাড়ি করছে ইত্যাদি ইত্যাদি........

হে আপনার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলুনতো শিক্ষিত মানুষের পোশাক পরে, দুধের মত ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা মাথায় টুপি পরেও যদি বিনা টিকিটে ট্রেনে উটি পক্ষান্তরে আমাদেরই এই চাঁদ মুখে দুর্নীতি বা লুটপাটের কথা কেমন করে বলি?????

Monday, January 27, 2020

চাকরির দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্বেও কেন চাকরি দেয়না!


প্রায় মাস পূর্বের ঘটনা, তখন সময়টি ছিল প্রচন্ড গরমের। আমি ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং লিমিটেড চাকরি করি। আমার মুঠোফোনে সময় সপ্তাহে দু-একটি কল আসতো "ভাই/স্যার প্রচন্ড কষ্টে আছি একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেন যে কোনো কাজ হলেই করবো" এরকম কিছু কথাবার্তা।

তাদেরকে একটু সহযোগিতা করতে গিয়ে নিজেকে বেশ কয়েকবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।ধরুন তার নাম নরেশ, সে আমাকে ফোন করে বললো স্যার কষ্টে আছি, ঢাকা শহরে অর্থকষ্টের কারনে চলতে পারছিনা ইত্যাদি ইত্যাদি.....

খুব মায়া হলো বসকে বললাম আমার এই ছেলেটিকে নিতেই হবে, ভালো ছেলে আমাদের কাজে লাগবে আরও অনেক কিছু যা বলা লাগে আরকি। স্যার বললো আনো দেখি। কিছু দিনের মধ্যেই নরেশের চাকরির ইন্টারভিউ ব্যবস্থা করলাম। নরেশ এসেছে ইন্টারভিউ দিতে, এসেছে জিন্স পরে, ইন না করে।এই নরেশকেই কলেজে শিক্ষকরা কতবারই না পূণাঙ্গ ইউনিফর্ম পরার কথা বলেছে কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে ইউনিফর্ম এর সুফলটা যেখানে আসার কথা সেখানে আসলো না।ইন্টারভিউ বোর্ডে নরেশকে দেখেই বস আমাকে ডেকে বলে কাকে নিয়ে এসোছো?যার গেটআপই ঠিক নেই সে কিভাবে চাকরি করবে?বসকে বহু অনুরোধের পর এক পর্যায়ে বস নরেশকে নিতে সম্মতি দিল।

যাইহোক ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে তার চাকরিরও ব্যবস্থা হলো, নিয়োগের তারিখও নির্ধারিত হলো। সেই নির্ধারিত তারিখে নরেশ আর এলো না, আমি তার ফোনে কল করি, আমার কল রিসিভ করেনা, এদিকে বসের ঠ্যালাতো আছেই ফারাজী তোমার ছেলে কই??? অবশেষে ২দিন পর নরেশ আমাকে মেসেজ করে জানায় তার শুক্রবার অপডে লাগবে অন্যথায় সে চাকরি করবেনা। বস আমাকে ইচ্ছামত বকলো তোমার লোকেরও কমনসেন্স নেই, সেই সাথে দিন দিন তোমারও কমনসেন্সও লোপ পাচ্ছে আরও ইত্যাদি ইত্যাদি.......

এবার আর এক ছোট ভাইয়ের কথা বলি, ধরুন ছোট ভাইটির নাম কমলেশ “ভাই একটা চাকরির ব্যবস্থা করেন “এই বাক্য নিয়ো গো-ধরে বসে আসে প্রায় ৩ মাস। একটি পর্যায়ে একটি কর্ম খালি হওয়ায় তার চাকরির সুযোগও এলো,সে ভাল গেটআপ নিয়ে এসেছে, চাকরিও হয়েছে,চাকরিতে যোগদানও করেছে।মোটামুটি ভালই চলছে,দিন পনেরো পার হতে না হতেই তার গালফ্রেন্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারনে সে আর চাকরি করবেনা। এবার গো ধরেছে ভাই আমার বেতন-কড়ি কিছুই লাগবেনা, আমাকে কারখানার মেন-গেট থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। ছোট ভাই বলে কথা সেই ব্যবস্থাও করা লাগলো। এবার বসের আবার সেই একই ঠ্যালা অকথ্য ভাষা হজম করলাম শুধু ছোট ভাইয়ের জন্য, ছোট ভাই বলে কথা হজমতো করাই লাগবে, আমিতো আর কমলেশের মত গালফ্রেন্ড সংক্রান্ত সমস্যার কথা বসকে বলতে পারছিনা।

এবার আরও এক ছোট ভাইয়ের কথা বলি, ধরুন এই ছোট ভাইটির নাম বলাই সে আমাকে বলে “ভাই যদি ফ্লোর-মুছা কাজও হয় দিন আমি করবো”। পূর্বের তিক্ত ২ অভিজ্ঞতা কথা তাকে শুনালাম , সে চমৎকার একটি কথা বলো, ভাই হাতের ৫টি আঙ্গুল সমান হয়না, আমি ওদের মত হবোনা। আমাকে বিশ্বাস করুন আমি যে কোন কাজ হলেই করবো। যাইহোক আবার ছোট ভাইয়ের ফাঁদে দিলাম পা, পা-দিয়েই পা আটকে গেছে আর বের করতে পারছিনা। সে এক আরও তিক্ত অভিজ্ঞতা।বলাই ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়েছে ,সিওও স্যার একটি প্রশ্ন করেছে কতদিন কাজ করবা ,বলাই উত্তর দেয় ৬ মাস। সাথে সাথে ওকে রিজেক্ট করে দেয়।

আমার বস সিওও স্যারের রুম থেকে বের হয়েই আমাকে কল.... যা ইচ্ছা তাই বলে বকা দিল।বলাই একটু পরে এসে বলছে সরি সরি সরি ভাই, আমি বুঝতে পারিনি তাই এমন কথা বলেছি,আমি অনেক নার্ভাস ছিলাম আরও অনেক কিছু....

আপনি আবার একটু চেষ্টা করেন। আমি না করে দি,আমার দ্বারা আর হবে না। এখন বলাই আমার রুমমেটদের অনুরোধ করতে শুরু করলো,তাদের অনুরোধে এক পর্যায়ে রাজি হই বসের সাথে কথা বলতে কিন্ত এই বার আমি আর বসের কাছে যাবোনা। এবার যাবে আমার রুমমেট/বড়ভাই কার্তিক দাদা। যাই হোক একটা পর্যায়ে তার চাকরির ব্যবস্থা হলো।

প্রথম দিনই বলাইয়ের নাইট শিফট ডিউটি, নাইট শিফটে ডিউটি করলো, সকালে একসাথে নাস্থা করলাম। এখন বলাই বলছে ভাই আমার কিছু কেনাকাটা আছে আমি বাইরে যাচ্ছি, বলাই ঐ যে বাইরে গেল আর এলোনা। এবার শুধু বস না সাথে আছে বড়ভাই কার্তিক দাদারও ঠ্যালা।সবই হজম করতে হয়,ছোট ভাই বলে কথা....।

এখন প্রশ্ন, এর পরেও আমি কি আমার শিক্ষার্থী এবং ছোট ভাইদের চাকরির ব্যবস্থা করবো..?

আমারই এক বড় ভাই এর কাছে আমি নিজেই চাকরি চেয়ে ছিলাম সে বলেছিল আমি দেখছি কিন্ত তার দেখা আজও শেষ হয়নি। বড় ভাইয়ের এই দেখছি নিয়ে তখন খুব কষ্ট পেয়ে ছিলাম, এখন বুঝি বড় ভাইয়ের দেখছি এখনও শেষ হয়নি কেন!

প্রিয় শিক্ষার্থী/ প্রিয় ছোট ভাই,
তোমাদের উদ্দেশ্যে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম,আবেগ আর চাকরির বাস্তবতার মধ্যে আকাশ সমান দূরত্ব। এই দূরত্বকে ওভারকাম না করতে পারলে একটা দিন আসবে তখন বড়ভাই আর শিক্ষকরা দেখছি বলে থেমে যাবে!

Saturday, January 11, 2020

প্রেমে পড়ার মত গর্হিত কাজ আর একটিও নেই।

বিশ্বাস করুন আমাদের সমাজে প্রেমে পড়ার মত গর্হিত কাজ আর একটিও নেই। যতই আমরা বলি প্রেম সত্য,স্বর্গিয় ইত্যাদি ইত্যাদি....। এই ছেলে আর মেয়েটার কান্ড দেখেছো আহাহা ছ্যাছ্যা-ছ্যা এবার পাড়াটা রসাতলে গেল।

কেন করে জানেন? জেলাছি থেকে করে, ও যদি করতে পারতো তবে সবই ঠিক ছিল,এটা কোন কোন ব্যাপার হলো।এতে নিন্দার কিছু নেই কারণ প্রেম সত্য,স্বর্গিয়, ঈশ্বরের দান আরো কত কি!

Friday, January 10, 2020

আমার ইচ্ছে করে

আমার ইচ্ছে করে একটু সহানুভূতি একটু সাহায্য করতে।
আমার দীনতা সেটা দেয়না করতে, অপরাধবোধ ছাড়েনা পিছু, দেয়না ঘুমাতে রাত্রে।।
রাত্রি-ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, ভাবনা গুলোর ভারি পাথর -চেপেছে মাথায় আমার।।
অসহায় ছেলে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দিয়েছে জলানজলি।।
রাত্রি ক্লান্ত-------চেপেছে মাথায় আমার।।
আমার ইচ্ছে -------দেয়না ঘুমাতে রাত্রে।।

Thursday, December 13, 2018

আমি সূর্যকে ভালবাসি


আমি সূর্যকে ভালবাসি, আমি বাংলাকে ভালবাসি ,

আমি ভালবাসি বাংলার এই মাটিকে ।।

আমি দিপ্ত কন্ঠে বলছি মাগো তোমায় ভালবাসি ।।

সুজলা-সুফলা আমার বাংলা কত যে সোনার ধন,

শত বাঙালীর রক্তে গড়া আমারি জন্মভুমি ,

৫২ থেকে শুরু, ভাষার জন্য দিয়েছো জীবন,  স্বরণ করছি

সালাম, রফিক, বরকত, তোমাদের বিন্রম শ্রদ্ধায় ।

আমি দিপ্ত কন্ঠে বলছি মাগো তোমায় ভালবাসি ।।

স্বাধীনতা তুমি কোথায়, ৭১ তুমি কোথায়, মতিউর তুমি কোথায়,

জাহাঙ্গার তুমি কোথায়, কি দিয়ে জানাবো শ্রদ্ধা তোমায় আছে কি

বলো আমার ।

আমি দিপ্ত কন্ঠে বলছি মাগো তোমায় ভালবাসি ।।

উৎসর্গ

৫২ ও ৭১ এর শহীদদের